ইউএসএর ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট টাফার দেন আওয়ার ল’ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
বিশ্বের দেশে দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উদাহরণ দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এ ধরনের আইন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে। যুক্তরাজ্যে সাইবার সিকিউরিটি ল’জ এন্ড রেগুলেশন ২০২২, যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার ল’ এন্ড পানিশমেন্ট এবং এ ধরণের আইন বিশ্বের বহু দেশে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরণের অপরাধের শাস্তি হচ্ছে ২০ বছর কারাদন্ড। এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর কারণে যদি কারো মৃত্যু হয় তবে সেই ডিজিটাল অপরাধের শাস্তি হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আমাদের দেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট অত টাফ না। ইউএসএর ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট টাফার দেন আওয়ার ল।’
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গার্ডিয়ানের জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদন, এভরিডে নাইন পার্সেন্ট ইজ অ্যারেস্টেড ইন ইউকে বিকজ অফ দ্য ডিজিটাল অফেন্স। ডিজিটাল অফেন্সের কারণে পার ডে অন ইন অ্যাভারেজ নাইন পার্সেন্ট ইজ অ্যারেস্টেড। আমাদের দেশে হচ্ছে? হচ্ছে না। কারণ এই আইন সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।
সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার আগে বাসন্তীর গায়ে জাল পরিয়ে ছবি তুলে সেটি প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন জালের দাম কিন্তু কাপড়ের দামের চেয়ে বেশি ছিলো, এখনো জালের অনেক দাম। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বাসন্তীর গায়ে জাল পরিয়ে ছবি তুলে প্রকাশ করা হয়েছিল। অনেকে বলছে, ২৬ মার্চে প্রথম আলোর এ ঘটনাটি বাসন্তীকে জাল পরানোর মতোই। রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এ ধরণের অসত্য পরিবেশন সর্বমহলের মতে একটি অপরাধ, ডিজিটাল অপরাধ।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার বিষয় ব্যবস্থা নিতে তো প্রেস কাউন্সিল আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনলাইন ভার্সন প্রেস কাউন্সিলের অধীনে আসেনি। প্রেস কাউন্সিলের তিরস্কার করা ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা নেই। তাকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তার আগেই কিন্তু মামলা হয়েছে। মামলা হওয়ার পরেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোর্টেও নেওয়া হয়েছে। এখন প্রথম আলো কোর্টে সেই ব্যাখ্যা দেবে। কোর্ট সেটা বিচার করবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনলাইন ভার্শন প্রেস কাউন্সিলের অধীনে আসেনি। অনলাইন নিউজ মিডিয়া ইজ নট আন্ডার দ্য জুরিসডিকশন অব প্রেস কাউন্সিল, অর ফেসবুক পেজ অফ এনি নিউজ পেপার ইজ নট আন্ডার দ্য জুরিসডিকশন অব প্রেস কাউন্সিল এবং প্রেস কাউন্সিলের তিরস্কার করা ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা নেই।
আরেক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ২৬ তারিখ অনলাইনে যে সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে, এটি অবশ্যই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিমূলে আঘাত হানা হয়েছে। স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, সেখানে একটা ছেলেকে ১০ টাকা দিয়ে ফুসলিয়ে তাকে দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সে যেটি বলেনি, সেটি প্রচার করা হয়েছে, এটি ঠিক হয়নি বলেই তো তারা সরিয়ে নিয়েছে। এখানে অবশ্যই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিমূলে আঘাত হানা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তুলে নেওয়া এবং গ্রেফতার হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। কাউকে অপরাধবিহীনভাবে কেউ যদি নিয়ে যায় সেটা তুলে নেওয়া। আর কারো অপরাধ হয়েছে, মামলা হয়েছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কাউকে যদি নিয়ে যায় সেটা হচ্ছে গ্রেফতার করা। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, আমি যদি কাউকে আঘাত করে আহত করি এবং এরপরে সরি বলি তাহলে কি আমার অপরাধ ঢেকে যায়?
ভুল হতে পারে না? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন পাল্টা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভুল। রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিমূলে আঘাত হানা সেটি কি ভুল? ভুল যদি হয়ে থাকে তারা সেটা আদালতে ব্যাখ্যা দেবে। কিন্তু যে সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে, সেটি এখনো ফেসবুকে আছে। এখনো তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আছে। এটা সরে গেলেও তো সরে যায় না, যে কোনো জিনিস।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমেদ, পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, গ্রন্থকার ও গবেষক পপি দেবী থাপা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।







